প্যারাস্যুটে ইরানে নামতে পারে ২ হাজার মার্কিন সেনা: বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
![]() |
| ছবি : সংগৃহিত |
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার প্যারাস্যুটে করে সরাসরি ইরানে নামতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
কেন এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ?
৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বাহিনী। তারা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম। প্যারাস্যুটের মাধ্যমে শত্রু অঞ্চলে নেমে বিমানঘাঁটি, বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখলে এরা বিশেষভাবে দক্ষ।
এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক প্রায় সব বড় সংঘাতে অংশ নিয়েছে।
সম্ভাব্য লক্ষ্য কী?
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য থাকতে পারে—
১. হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট, যেখানে দিয়ে প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয়। ইরান সেখানে মাইন পেতে রাখা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্নকে ব্যবহার করতে পারে।
২. কেশম দ্বীপে অভিযান
কেশম দ্বীপ ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল সিটি’ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা গভীর টানেল নেটওয়ার্কে সুরক্ষিত।
৩. খারগ দ্বীপ দখল
খারগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এই দ্বীপ দখল করা গেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
৪. ইউরেনিয়াম স্থাপনায় অভিযান
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনা।
ঝুঁকি কতটা?
সামরিক বিশেষজ্ঞ ফিল ইনগ্রাম জানিয়েছেন, এসব অভিযান “দেখতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ”।
তার মতে, প্রথমে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষা দুর্বল করতে হবে, তারপর প্যারাট্রুপারদের নামানো হতে পারে।
অন্যদিকে, রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ সাভিল বলেন, সংকীর্ণ জলপথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
হোয়াইট হাউজের অবস্থান
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা রাখছেন।
বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার মেরিন নিয়ে গঠিত দুটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ দলও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে।
