মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নিজে না এগিয়ে পাকিস্তান-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করেছে ইরান-এর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে।
![]() |
| ছবি :সংগৃহিত |
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এরপর পাকিস্তান ব্যাকচ্যানেল হিসেবে কাজ করে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখানে পুরোপুরি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি; বরং এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ। সরাসরি আলোচনা কঠিন হয়ে পড়ায় ওয়াশিংটন একটি ‘মধ্যবর্তী সেতু’ হিসেবে পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে বড় একটি কারণ ছিল হরমুজ প্রণালি। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাই প্রণালিটি সচল রাখতে দ্রুত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আবারও সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি পরোক্ষ প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে শান্তিতে রূপ নেয় কি না।
